দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তাঁর মেয়ের জামাতা ও লেখক-গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একই সঙ্গে মির্জা ফখরুলকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর ব্যক্তিত্ব, দায়িত্ববোধ ও রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে মির্জা ফখরুলকে নিয়ে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও মূল্যায়ন তুলে ধরেন ফাহাম। তিনি জানান, প্রায় ২২ বছর ধরে মির্জা ফখরুলকে চেনেন। তাঁর মতো দায়িত্বশীল মানুষ জীবনে খুব কম দেখেছেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুলের দায়িত্বশীলতার উদাহরণ দিতে ফাহাম লেখেন, তিনি এমন একজন বড়ভাই, যিনি সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট পেলে ছয়জনকে একটি করে দিয়ে নিজে না নিয়েও খুশি থাকবেন। অন্যদের প্রয়োজন পূরণ করাই তাঁর কাছে সন্তুষ্টির বিষয় বলে উল্লেখ করেন ফাহাম।
ফাহামের ভাষ্য অনুযায়ী, মির্জা ফখরুলের মধ্যে নিজেকে কাজে লাগানোর প্রবণতা প্রবল। কোনো পরিস্থিতিতেই তিনি বসে থাকতে পারেন না। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটানোর সময়ও ঘর পরিষ্কার করার মতো কাজে নিজেকে ব্যস্ত রাখতেন। তাঁর সাফল্যের পেছনে এই মানসিকতা ও ভদ্র আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ব্যক্তিগত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন ফাহাম। তাঁর দাবি, ওই সময় মির্জা ফখরুল বলেছিলেন, ‘আমার জীবনের কাজ হয়ে গেছে। ম্যাডামকে বের করে আনছি। আর ইলেকশন হলে দেশটাও গণতন্ত্রে উঠে যাবে। আই অ্যাম স্যাটিসফায়েড।’
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে দেখতেন বলেও জানান ফাহাম। তাঁর মতে, খালেদা জিয়ার প্রতি মির্জা ফখরুলের আনুগত্য ও দায়িত্ববোধ ছিল ব্যতিক্রমী।
বিএনপির তরুণ নেতা-কর্মীদের অনেকে মির্জা ফখরুলকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে অভিহিত করেন উল্লেখ করে ফাহাম বলেন, এ কথার মধ্যে যথেষ্ট সত্যতা রয়েছে। তাঁর মতে, মির্জা ফখরুল বিএনপির রাজনৈতিক স্বার্থের আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান। তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি সবার পছন্দ নাও হতে পারে, তবে তিনি যা বিশ্বাস করেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন।
দেশে গণতন্ত্র চর্চার প্রসঙ্গেও মির্জা ফখরুলের ভূমিকার প্রশংসা করেন ফাহাম। তিনি বলেন, বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ গণতন্ত্র চর্চা করা সম্ভব নয়। তবে মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন ফাহাম। তাঁর মতে, রাষ্ট্রপতি পদে এমন একজন ব্যক্তির প্রয়োজন, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। সেই বিবেচনায় মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সিদ্ধান্তকে তিনি যথাযথ বলে মনে করেন।
তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ায় বিএনপিতে একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারানোর বিষয়টি নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন ফাহাম। তাঁর মতে, দলের ও দেশের স্বার্থকে নিজের আগে দেখতে পারেন—এমন একজন নেতার প্রয়োজন বিএনপিতে রয়েছে এবং মির্জা ফখরুলের বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ফাহাম আরও দাবি করেন, মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আওয়ামী লীগের সমর্থকদের মধ্য থেকেও অভিনন্দন এসেছে। তাঁর জীবদ্দশায় অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এতটা ‘দলনিরপেক্ষ’ সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা মনে করতে পারছেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুলকে ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন উল্লেখ করে ফাহাম বলেন, বিএনপির ভেতরেও তাঁর নিজস্ব কোনো গ্রুপিং নেই। সব মিলিয়ে মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে দেশের জন্য ইতিবাচক ঘটনা হিসেবে দেখছেন তিনি।
এমএম/